গাংনীতে চুরির হিড়িক
এম চোখ ডটকম, ডেস্ক :
মেহেরপুরের গাংনী পৌর এলাকায় যেন চুরির হিড়িক পড়েছে। চোর চক্র প্রায় প্রতি রাতেই কোন কোন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করলেও পুলিশের তৎপরতা নেই বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সর্বশেষ সোমবার দিনগত রাতে বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম থেকে একটি গরু এবং কাঁচা বাজার পাড়া থেকে গাড়ীর ব্যাটারি চুরি হয়েছে। চুরি আতংক বিরাজ করছে গোটা এলাকাজুড়ে। সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা চৌগাছা গ্রামে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোমবার দিনগত রাতে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক রাশিদুল ইসলামের গোয়ালে হানা দেয় চোর। এসময় গোয়ালে থাকা একটি এঁড়ে গরু নিয়ে যায়। একই রাতে গাংনী কাঁচা বাজার পাড়ায় একটি লেগুনা থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়।
লেগুনা চালক জহুরুল ইসলাম জানান, রাত ৮টা থেক ৯টার মধ্যে চুরি হয়েছে। চুরির প্রবণতা বেড়ে যাওয়া বাড়ির সামনে লেগুনা রেখে পাহারা করার চেষ্টা করেন তিনি। পাহারার কোন এক ফাঁকে চুরি হয় ব্যাটারি।
এদিকে চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে চৌগাছা গ্রামে। গেল এক মাসে প্রায় অর্ধশত চুরির ঘটনায় চুরি আতংক বিরাজ করছে গ্রামবাসীর মনে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠের পশ্চিম দিকে সড়কের সাথে রেজা এন্টারপ্রাইজের (ডিলার) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অফিসের সামনে থাকা আলগামনের একটি ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায় রাতের আধারে। এর পরেই একেক করে প্রায় প্রতি রাতেই বাড়ির সামনে থাকা যানবাহনের ব্যাটারি চুরি শুরু হয় চৌগাছা গ্রামে। চোর চক্রের সদস্যদের অপতৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলেও পুলিশের নিরব ভুমিকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চৌগাছা গ্রামে বেশ কয়েকজন পরিবেশক (ডিলার) ব্যবসায়ী রয়েছেন। ক্ষুদ্র যানবাহনের মাধ্যমে তারা পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। এসব গাড়ীগুলো রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে পড়ে থাকে। মানুষজন ঘুমিয়ে পড়লে চোরচক্রের সদস্যরা হানা দিয়ে ব্যাটারিসহ গাড়ীর মূল্যবান জিনিসপত্র খুলে নিয়ে যায়।
গেল এক মাসের মধ্যে চৌগাছা গ্রামের মোশারফ হোসেনের অটো গাড়ীর ৪টি ব্যাটারি, তৌহিদুল ইসলামের লেগুনার ১টি, আক্তারুল ইসলামের ট্যাক্টরের ১টি, সুমন হোসেনের আলগামনের ১টি এবং আবুল কালাম আজাদের নছিমনের ২টি ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায় চোর চক্রের সদস্যরা।
ব্যাটারি চুরির পাশাপাশি মুদি দোকানেও হানা দিয়েছে চোর। চৌগাছা গ্রামের তবিরুলের দোকানভেঙ্গে এলইডি টিভি, সিগারেট এবং অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। এর পরেরদিন ভিটাপাড়ার আকাশের চা দোকানের দরজা ভেঙ্গে মালামাল চুরি হয়। এর কয়েদিনের মধ্যে নজরুলের দোকানে হানা দেয় চোর।
আক্তারুলের মুদি দোকানে চুরির পরের দিন ভিটাপাড়া মোড়ে থাকা একটি গাড়ীতের হানা দেয় চোর। গাড়ির মালিক টের পেয়ে চিৎকার দিলে অজ্ঞাত দুই চোর পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ব্যাটারি ও মুদি দোকানে চুরি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বাড়িতে চুরি হয়েছে। দিন এবং রাতে বাড়িতে চুরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি কয়েকটি পাখিভ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে চৌগাছা গ্রামে।
জানা গেছে, কোন চুরির ঘটনায় আজ পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। মৌখিকভাবেও থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেনি। ফলে এতেগুলো চুরির ঘটনা এবং চুরি আতংক বিরাজ করলেও থানা পুলিশের তরফ থেকে প্রতিকারের কোন উদ্যোগ নেই।
তবে চুরি প্রতিরোধে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু। তিনি বলেন, এতগুলো স্থানে চুরি হওয়ার পরও পুলিশ পর্যন্ত খবর না পৌঁছুনে অত্যান্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গাংনী থানা পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং চুরি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ওসির প্রতি আহবান জানান তিনি।
জানতে চাইলে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, চুরির বিষয়টি আমরা জানিনা। যাদের চুরি হয়েছে তাদেরকে অভিযোগ করতে হবে।