ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিরুদ্দেশ
এম চোখ ডট কম, ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারে ব্যাংকে টাকা তুলে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন তাসলিমা খাতুন নামের এক গৃহবধু। গেল ৫১ দিন ধরে তার কোন খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবারের লোকজন। গৃহবধু আত্মগোপন করেছেন না অন্য কোন টানে ঘর ছেড়েছে তা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা চলছে।
নাছিমা খাতুন গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের সৌদি প্রবাসী নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, তাসলিমা খাতুন হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মেয়ে। গ্রামের নাজমুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। পরিবারের সদ্যদের মুখে হাসি ফোটাতে দীর্ঘদিন ধরে সৌদিতে কাজ করছেন নাজমুল। প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে স্বপ্নের বাড়ি তৈরীর কাজ শুরু হয়। বাড়ি নির্মানের জন্য নাজমুল ইসলাম স্ত্রীর নামে ব্যাংকে টাকা পাঠাতেন। ওই টাকা তুলে এনে পরিবারের লোকজনকে দিতেন তাসলিমা।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গেল ২৮ ডিসেম্বর বামন্দী বাজারে ব্যাংকে টাকা তোলার কথা বলে তাসলিমা খাতুন স্বামীর বাড়ি থেকে বের হন। ৫৫ হাজার টাকা তুলে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তবে টাকা তোলার পর থেকেই তিনি নিরুদ্দেশ। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় তার ব্যবহৃত সোনার গয়না ও পোষাক নিয়ে গেছেন বলে পরবর্তীতে জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন বাড়ি থেকে যাওয়ার পর স্বামী এবং পিতার পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ। দশ বছর বয়সী কন্যা সন্তান মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছেন। এর পরেও মিলছে না তাসলিমার সন্ধান। তার সন্ধান পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করেছেন। সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে তার ছবিসহ পোস্ট দেওয়া হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। তবুও কোন সাড়া পাচ্ছেন না তাসলিমার কাছ থেকে।
এদিকে তাসলিমার এমন নিরুদ্দেশ নিয়ে পরিবার ও এলাকার মানুষের মনে নানা প্রকার সন্দেহ দানা বেধেছে। কোন কারণে সে আত্মগোপন করেছেন না অন্য কোন টানে ঘর ছেড়েছে তা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা রয়েছে। তবে পরিবারের কাছে তার নিরুদ্দেশ হওয়ার সঠিক কারণ অজানা।
জানতে চাইলে, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, জিডির বিষয়টি খতিয়ে দেখে গৃহবধুর সন্ধান করা হবে।