অপারেশন থিয়েটারে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ , দুই চিকিৎষককে মারধর, ক্লিনিক ভাংচুর.
এম চোখ ডট কম, ডেস্ক:
মেহেরপুর ক্লিনিকে সার্জারির সময় মৃত্যু হয়েছে নাছিমা খাতুন নামের এক রোগীর। চিকিৎসকের অবহেলা দায়ী করে ক্লিনিকে ভাংচুর এবং দুই চিকিৎসককে পিটিয়েছে স্থানীয়রা। গেল রাতের এ ঘটনায় আহত দুই চিকিৎসককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসক বলছেন, অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পরই ভীত হয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনিকে রোগী মৃত্যু ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেহেরপুরের সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, মেহেরপুরের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী নাছিমা খাতুনের জরায়ুর অস্ত্রপচারের জন্য সন্ধ্যায় শহরের মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করেন স্বজনরা। রাতে তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। অস্ত্রপচারের জন্য ডাঃ মিজানুর রহমান ও তার ছেলে ডাঃ মুশফিকুর রহমান অভি প্রস্তুতি নেন। কিছুক্ষণ পর অসূস্থ্য হয়ে পড়েন রোগী নাছিমা। অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত হয়ে পড়েন রোগীর স্বজনরা। মারধর শুরু করে দুই চিকিৎসককে। এতে গুরুতর আহত হন পিতা পুত্র চিকিৎসক। ভাংচুর করা হয় অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রাংশ ও ক্লিনিকের বিভিন্ন স্থানে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সেনা সদস্যরা এসে উদ্ধার করেন ঐ দুই চিকিৎসককে। বর্তমানে তারা মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন নাছিমা খাতুনের ছেলে হুদা মিয়া।
তবে অভিযুক্ত ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, অবসের ইঞ্জেকশন পুশ করার আগেই ভীত হয়ে রোগীর হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পরও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই ভাংচুর ও মারধরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন বিএমএম মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ডাঃ আব্দুস সালাম।
ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি শান্ত করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু জানান, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ কাছ থেকে পেলে তদন্ত করা হবে জানালেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।