গাংনীতে শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি
এম চোখ ডটকম, গাংনী
সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ। রবিবার (২৯ মার্চ) মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় সরকারের ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ বা ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে বক্তারা বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় সরকার শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ঝরেপড়ার হার কমবে এবং একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে। গাংনী উপজেলায় সরকারের ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ বা ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’। সংস্থাটি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার (টিফিন) সরবরাহ করবে। গাংনী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাংনী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ। সুশীলনের উপজেলা ম্যানেজার সুমন কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুর রশীদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অপুষ্টি দূর, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধ করতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যা শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করবে। এতে শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি চালু হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সরকারের একটি ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ। এই কর্মসূচির আওতায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলগুলোতে পুষ্টিকর বনরুটি, কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, সেদ্ধ ডিম, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং ইউএইচটি দুধ সরবরাহ করা হবে। যা টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এতে প্রয়োজনীয় শক্তি, প্রোটিন ও ভিটামিনের যোগান পাবে শিক্ষার্থীরা, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। এসময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।