রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ
এম চোখ ডট কম, ডেস্ক:
১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। একইভাবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের (বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা) উপসচিব আল আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, ভোটের সময় ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। আর মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে একটানা ৭২ ঘণ্টা।
যেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে
প্রজ্ঞাপনে যেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে তার মধ্যে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, সশস্ত্রবাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন এবং ওষুধ, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন। আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয় স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয় স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোন যানবাহন।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) জন্য একটি গাড়ি (জিপ কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, মোটরসাইকেল, নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে।
এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহন এবং জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাহির ও প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা উক্তরূপ সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। উপরন্তু, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উল্লিখিত যানবাহনগুলো ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের উপরও বর্ণিত সময় অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ অথবা শিথিলের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে এসব বিষয়ে ক্ষমতা অর্পণ করা হলো বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
ট্রেন চলাচলের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচনের দিন স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে। তবে বাড়তি কোনো ট্রেন চলাচল করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।