সর্প দংশনে ওঝা কবিরাজ নয় সোজা হাসপাতালে যেতে হবে।। গাংনীতে জনসচেতনতামূলক সভা
এম চোখ ডট কম, ডেস্ক:
কাউকে সর্প দংশন করলে কথিত ওঝা কবিরাজের কাছে না গিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্তারা। সর্প দংশনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গাংনী হাসপাতালেই রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তারা। কথিত ওঝা কবিরাজের কাছে গিয়ে অপচিকিৎসায় মৃত্যুরমুখে পড়ছেন অনেকে।
সাপে কামড়ানো প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাংনীর সাহারবাটি কমিউনিটি সেন্টারে আজ শনিবার দুপুরে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভা থেকে জনসচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃব্য রাখেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তঅরা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মফিজুর রহমান।
এ সময় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমান, চিকিৎসক ডা. সামিয়া সুলতানা, সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা, কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাপে কামড়ানোর ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। এ সময় মাঠে-ঘাটে, কৃষিকাজে কিংবা বাড়ির আশপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাপের কামড়কে অবহেলা না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
বক্তারা আরও বলেন, সাপে কামড়ানোর পর অনেকেই এখনও ওঝা, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করেন। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় এবং রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই কুসংস্কার পরিহার করে আধুনিক চিকিৎসার ওপর আস্থা রাখতে হবে। সাপে কামড়ানোর পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখতে হবে, অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া কমাতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে হবে। হাত বা পায়ে শক্ত করে বাঁধা, ক্ষত কেটে রক্ত বের করা কিংবা বিষ চুষে বের করার মতো ভুল পদ্ধতি থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অতিথিরা বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাম পর্যায়ে প্রচারণা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে সাপে কামড়ানোর কারণে মৃত্যু ও জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে স্কুল-কলেজ, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে সাপে কামড়ানোর পর করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয় এবং সবাইকে সচেতন থেকে অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান বক্তারা।