প্রেম নয় তালাকের কারণে কলেজ ছাত্রীর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করেছে যুবক
এম চোখ ডট কম, ডেস্ক:
প্রেম নয়, তালাক দেওয়ার কারণেই কলেজ ছাত্রী স্মৃতি খাতুন কুপিয়ে জখম করেছে সায়ন। এ সময় কুপিয়ে ঐ ছাত্রীর ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়েকে বাঁচাতে গেলে কুপিয়ে জখম করা হয় বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনকে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর। আহত তিন জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত সায়নকে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ডমার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সায়ন শহরের মল্লিকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রাক চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিম হোসেন, রেবেকা খাতুন ও তাদের কণ্যা স্মৃতি খাতুন নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে জানালা বেয়ে ওঠে সেলিম হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে ট্রাক চালক সায়ন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে কুপিয়ে স্মৃতির ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার বাবা-মা ছুটে আসে। তাদের ওপরও ধারালো অস্ত্র হামলা চালায় সায়ন। কুপিয়ে আহত করে তাদের। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ঐ যুবক।
তাদের চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলো সায়ন। আজ বুধবার সকাল ৭ টার দিকে মল্লিকপাড়ার একটি আম বাগান থেকে তাকে আটক করা হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ছিলো সায়ন ও স্মৃতির মাঝে। কিছুদিন আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর দাম্পত্য কলোহের জের ধরে স্মৃতি সায়নকে তালাক দেয়। এ কারণেই এই হামলা বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারপরই হামলার আসল কারণ জানা যাবে বলেও তিনি জানান।