প্রতিটি কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের উচিত এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা
গাংনী ২৯ অক্টোবর /২০২৬:
প্রতিটি কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের উচিত এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
আজকে দেশে সারের যে সংকট বা চাহিদা বেশি তার অন্যতম কারণ হচ্ছে জমিতে রাসায়নিক সারের ডোজ বৃদ্ধি। অতিরিক্তি রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে আমাদের মাটি সব শেষ। তাই এরকম উদ্যোগ প্রতিটি উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসন যদি গ্রহণ করতে পারে তবে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় হবে। সার আমদানি কমে যাবে উল্লেখযোগ্য হারে। সার্বিকভাবে উপকৃত হবো আমরা কৃষি সমাজ।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের দেশের কৃষি বিভাগের পলিসি মেকিং কর্মকর্তারা আজও মাটি নিয়ে তেমনটি ভাবেন না। ভাবনা আসলো একটি উপজেলা থেকে। একজন ছোট্ট পোস্টের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাথা থেকে আসলে দেশের মাটি ও কৃষক বাঁচানোর মহা পরিকল্পনা। তিঁনি ভাবলেন, চিন্তা করলেন এবং উদ্যোগে নিলেন। সেই ভাবনায় আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে কৃষিপ্রেমের পরিচয় দিলেন মিরপুর ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু ।
কৃষি মন্ত্রণালয় বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাজেট বা কর্মসুচী ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোন কর্মকর্তার পক্ষে এমন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন। তবে কৃষির জন্য ভাল কিছু করার ইচ্ছা থাকলে অধিদপ্তরের কর্মসুচী ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের অর্থে অনেক কিছু করা যে সম্ভব তা সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিলে দিলেন মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান।
সারাবিশ্ব এখন ভাসছে প্রযুক্তির জোয়ারে। কৃষি তো বিজ্ঞানের আস্তরনে মোড়ানো। সেখানে মাটি পরীক্ষাসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকে সঠিক পরামর্শ দেওয়ার কথা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সামনের সারির যোদ্ধা উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের। কিন্তু তাদের বেধে রাখা হয়েছে প্রণোদনা, জরিপসহ বিভিন্ন কাজে। মাঠ পর্যায়ে সেবা দেওয়ার সময় তো তাদের হাতে থাকে না। তার পরে নেই আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম।
এমন পরিস্থিতিতে মিরপুর উপজেলা প্রশাসন মিরপুরের পক্ষ থেকে মাটির চাহিদা বুঝে সারের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে “স্মার্ট সয়েল সেন্সর” বিতরণ করা হলো। এই সেন্সর দিয়ে মাটির ১০টি ফ্যাক্টর পরিমাপ করা যাবে। একই সাথে বাংলা ভাষায় সারের ডোজ লেখা প্রেসক্রিপশন প্রিন্ট করা যাবে, যা কৃষক ভাইদের জন্য খুব সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তা কৃষকের জন্য হোক কৃষকের চাহিদা অনুসারে। কৃষকের চাহিদা নেই এমন প্রণোদনা চাপিয়ে দিয়ে কার বা কাদের লাভ হচ্ছে ? আমরা কৃষক প্রতিটি মুর্হূতে মারা যাচ্ছি সরকারি যথাযথা সহযোগিতার অভাবে। তাই কৃষকের চাহিদা এবং মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কৃষক ও কৃষি বান্ধব এমন উদ্যোগ সারাদেশে সব উপজেলা কৃষি অফিস গ্রহণ করবে এ প্রত্যাশা।
-মাজেদুল হক মানিক, সিইও, স্বদেশ সীড